‘আমরা তিন বোন, আমাদের ভাই নাই’
স্বর্গে আমার বাবার পঞ্চম জন্মদিনের পোস্ট

গত সোমবার অবশেষে অনুষ্ঠানিকভাবে হল এক হাজার আটশ ছাব্বিশতম দিন, বছরের হিসেবে গুণে গুণে পাঁচ বছর, আমাদের বাবা রেফারি আবদুল আজীজ মারা গেছেন। আমার বাবা বাংলাদেশের ফুটবলের স্বর্ণযুগের একজন রেফারি ছিলেন। বাংলাদেশ থেকে খুব কম সংখ্যক রেফারি ফিফার এলিট রেফারি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন, উনি তাদের মধ্যে একজন ছিলেন। উনি উনার দীর্ঘ এবং বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি ঘটান ২০০০ সালে। এরপর অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন। ২০২০ সালের ২৭ অক্টোবর উনি কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে উনি রেখে যান স্ত্রী ও তিন কন্যা । এরপর কন্যা হিসেবে আরও ভালো করে বললে অত্যন্ত সাহসী পিতার বীর কন্যা হিসেবে আমরা বোনেরা এবং আমাদের মা কীভাবে এতটা পথ পাড়ি দিয়েছি আজ সেই গল্প বলতে চাই।
বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে আমাদের জীবনে গল্প খুব পরিষ্কার, ‘আমরা তিন বোন, আমাদের ভাই নাই’। কিন্তু এর সামাজিক ন্যারেটিভটা আমরা বদলাতে চাচ্ছি বহু বছর ধরে। গত শতাব্ধীর শেষ প্রান্তে আমরা বোনের যখন কৈশোরে বা শৈশবে ছিলাম, আমাদের দিকে একটি প্রশ্নই ছুড়ে দেওয়া হতো- তোমাদের ভাই নাই? ঢাকার মাঠে আমার বাবা উজ্জ্বলতম নক্ষত্র ছিলেন, খেলায় খেলোয়াড়দের সঙ্গে এক সুরে আলোচনায় থাকতেন তিনিও। তার বজ্রমুষ্ঠির নিয়ন্ত্রণে এগারো দুগুণে ২২ জন খেলোয়াড়ের নাভির শ্বাস উঠে যেতো। সহকারী রেফারি যাদের আমরা তখন লাইনসম্যান নামে জানতাম তারা চোখ বড় বড় রেফারি আজীজের দক্ষতা দেখতেন। মাঠের বাইরে চিত্র অন্য, ঢাকা স্টেডিয়ামের আশোপাশে এই কথা যে আমিই কত শুনেছি,
‘এই আইজ্জা তোর সম্পত্তি কে খাবে?’
অথবা
‘ভাই আবার একটা বাচ্চা নেন, ছেলে হবে!’
কখনও,
‘তিন নম্বরটাও মেয়ে হয়েছে?’
বোধ করি আমার বাবা অন্য ধাতুরই মানুষ ছিলেন। তাঁকে কেউ যখন জিজ্ঞেস করতো, ‘ছেলে নাই?’ উনি এক গাল হেসে বলতেন, ‘আছে, বেয়াই বাড়ি পালতে দিয়েছি।’ আমি অন্তত তাঁকে কখনও বলতে শুনিনি যে, আমার ছেলে নাই তো তাতে তোমার কী? একবার শুধু আমার ছোটবোনের জন্মের পরে পল্টনে এখন যেখানে পুলিশ হাসপাতাল তার ঠিক উল্টাপাশে কমিউনিটি সেন্টারের নিচে দাড়িয়ে, একজন সম্ভবত আমার বাবার পরিচিত চলতি রিকশায় তার দুই পুত্র নিয়ে জোরে জোরে বলে গেলেন, তার পুত্ররা নাকি আমাদের তুলে নিয়ে যাবে আর আমরা মেয়েরা নিরুপায় কিছুই করতে পারব না।
আমার বয়স তখন নয়। আমার বাবা আমার ঘাড়ে হাত রেখে ততখানি জোরেই বললেন, ‘তোদের জন্য আমার এই এক মেয়েই যথেষ্ট!’ আমার বাবা যখন কোভিডে মারা যান, আর আমার মাকে নিয়ে আরেক হাসপাতালে দৌড়াতে হচ্ছে, আমি, আমার ছোটবোন আর আমার পাঁচ বছর বয়সী কন্যাও কোভিড আক্রান্ত। কোভিডের মরা কেউ কবরের জায়গা দিচ্ছে না এমনকি আমাদের পৈতৃক ভিটাতে কবর দিতেও বাধা দিচ্ছেন স্বজনরা, বনানী কবরস্থানের বাইরে রাতে আমি একা দাড়িয়ে নিজেকে বলেছি,
‘আমার নাম মাকসুদা আজীজ। আমরা তিনবোন, আমাদের ভাই নাই। কিন্তু আমি একই যথেষ্ট।’

পুত্রসন্তান না থাকার জন্য এটা যদি বাইরের অবস্থা হয় ঘরের অবস্থা ছিল আরও করুণ। আমার দাদা ছিলেন, তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞানের অধ্যাপক। ১৯৮৩ সালে উনি সহকারী অধ্যক হিসেবে অবসরে যান। আমার বেশিরভাগ চাচা ফুফু শিক্ষিত এবং শিক্ষকতায় পেশায় আছেন। কিন্তু এই যে আমাদের ভাই নাই, এই কথা শুনতে শুনতে আমাদের কান ঝালপালা হয়ে যেত। আমরা গেন্ডারিয়াতে যৌথ পরিবারে একটা বড় সাবেকি বাড়িতে থাকতাম। কোনো সুবিধা আমাদের পর্যন্ত আসতে বয়সে ছোট চাচাতো ভাইদের অনাপত্তি নেওয়া হতো। আর কথায় কথায় তো এটা শোনা লাগতই যে আমার বাবার সম্পত্তি কে খাবে। যেন কন্যা বলে আমাদের খাওয়ার চাহিদা নেই! এরকম একটা পরিস্থিতিতে আমরা সব সময় জানতাম, জীবন কখনোই আমাদের জন্য সহজ নয়, আর এই নাটকের আনুষ্ঠানিক পর্দা উঠবে আমার বাবার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে- বাস্তবে তার তেমন কোনও ব্যতিক্রম হয়নি। বরং রাষ্ট্রীয় আইন, সামাজিক আচারে সেই গল্প ক্রমেই কঠিন হয়েছে।

প্রথম ধাক্কা আসে কবরের জায়গা না দেওয়া নিয়ে। আমার বাবা যখন আইসিইউতে তখনই এটা নিয়ে এক চোট হয়ে যায়। আমরা তখনও মানসিকভাবে মেনে নিতে পারছি না উনি বাঁচবেন না। কোভিড নিয়ে আমরা বোনেরাই পালাক্রমে আইসিইউর বাইরে পাহারা দিতাম, যদিও সেখানে নারীদের জন্য নির্ধাতির জায়গা ছিল না। এমনকি রাতে কোনও নারী থাকতেনও না। আমার বাবার জীবিত ছয় ভাই, তাদের পুত্র কেউ আমাদের খোঁজেও আসেননি। মৃত্যু নিশ্চিতের পর আমার একজন চাচা আমাকে প্রথম প্রশ্ন করেন, আমার বাবার সারা জীবনের যে সম্পদ সেই বাড়ি কার নামে? দ্বিতীয় প্রশ্ন, ব্যাংকে আমার বাবার আনুমানিক কত টাকা আছে? এর মধ্যে ফোনে আমার দুই চাচার মধ্যে কথা হয়, স্পিকারে ছিল ফোন। ফোনের ওপাড়ের জন পরিষ্কার বলেন, কবর গ্রামের বাড়িতে হতে পারবে না, তাহলে আমাদের যাতায়াত হবে উনি চান না আমরা গ্রামে যাতায়াত করি। আমার বুকের মধ্যে শুধু তখন সদ্য মৃত পিতার কবর খোজার ভার! আমি কোনো আলোচনায় যুক্ত না হয়ে ভাবছি, এই দেশের একজন কৃতি সন্তান আমার বাবা, এখানে তার একটা কবরের জায়গা হবে না?
এর পরের ধাক্কা আসে সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই। আমার মা ততদিনে যমের মুখ থেকে ফিরে এসেছেন। আমরা চেষ্টা করছি কাজে ফিরে যেতে, বাবা ছাড়া নিউ নরমালে অভ্যস্থ হতে- অন্য সূত্রে জানতে পারি গ্রামে আমাদের একটা সম্পত্তি বিক্রি হবে। আমি খোঁজ নেওয়ার পর আমাকে জানানো হয়, হ্যাঁ আমাকে একদিন সই করে দিয়ে আসতে হবে। কোনো অনুমতি নয়, কোনো তথ্য প্রদান নয় শুধুই নির্দেশনা। সেই অনুযায়ী আমরা একদিন গ্রামে যাইও। সকলের সকল নির্দেশনার মধ্যে আমরা বুঝতে পারি এখানে কেউ আমাদের মতামত চায় না। একমাত্র ভূমিকা অনুগত থাকা। আমরা ভীষণ অনুগত ছিলামও। হঠাৎ কেন যেন মনে হয়, সব ঠিক যাচ্ছে না। আমাদের দলিল ধরার সুযোগ দেওয়া হয় না, দলিলের কোনো কপি দেওয়া হয় না। সম্পদ বিক্রিতে আমাদের কোনো মতামতের সুযোগ নেই, একমাত্র ভূমিকা কাগজে একটা জায়গা দেখিয়ে দেওয়া হবে সেখানে সই করে আসতে হবে।

আমাদের বাবা রেফারি আবদুল আজীজ আমাদের এভাবে বড় করেননি। আমি সঠিক জানি না আমাদের ভাই থাকলে আমরা কন্যা হিসেবে সমান সুযোগ পেতাম কি না, তবে জীবনের এই পর্যায়ে এসে যখন আমরা অন্যদের সন্তান পালন দেখি আমরা বুঝতে পারি কন্যা হিসেবে তো বটেই সন্তান হিসেবেও আমাদের বেড়ে উঠা অত্যন্ত উচ্চমানের ছিল। আমার আন্তর্জাতিক খ্যাতির রেফারি বাবা সত্যই আন্তর্জাতিক মান জানতেন। বাংলাদেশের জনপ্রিয় নিয়নন্ত্রণকামী পদ্ধতিতে আমার বাবার কন্যারা বড় হয়নি।
যে বাড়ির মালিকানা নিয়ে কথা হচ্ছিলো সেই বাড়ির ইতিহাস বলা যাক। এই বাড়ির জমি আমার দাদার দেওয়া। সমপরিমাণ সম্পদ তিনি তার প্রতি পুত্র ও কন্যাকে দিয়েছে। কন্যাদের কন্যা বলে কম দেননি। আমার বাবা যখন এই জমি পান উনি ব্যাংক কর্মকর্তা হিসেবে গৃহ ঋণও পেয়েছিলেন। সেটা দিয়ে কিছুটা বাড়ি উঠেছে। এরপর প্রতি তলা উঠত কোনো একটা ফুটবল মৌসুম শেষে, হয়তো কোনো টিমের কোচিং হয়েছে, কারও খেলোয়াড় বাছাই হয়েছে, হয়ত কোনও ইন্টারনাশনাল এসায়েনমেন্ট হয়েছে এবং সবচেয়ে জরুরি ঈদের বোনাস। এইসব টাকা আসলে আমাদের পারিবারিক মিটিং বসত ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডের একটা চাইনিজ রেস্টুরেন্টে। আমার আর আমার বড় বোনের বয়স হয়তো ১০ এর নিচে, ছোটজন তখনও জন্মও নেয়নি। আমার বাবা জিজ্ঞেস করতেন, মেয়েরা আমাদের হাতে কিছু টাকা এসেছে, আমি প্রস্তাব করছি এই টাকা দিয়ে বাড়ির অমুক তলা তোলা হবে, অথবা আমরা এই টাকা দিয়ে বেড়াতে যাবো বা অমুক খরচ করব। তোমরা প্রস্তাবের পক্ষে বিপক্ষে ভোট দাও, ভেটো দেওয়ার অধিকার শুধু তোমাদের মায়ের। এভাবে আমরা ভোট দিতাম, বাড়ির উন্নয়ন কাজ হবে- এমন প্রতিপালনে বড় হওয়ার পর, শুধু হাত থেকে দলিল কেড়ে নিয়ে, চোখ রঙিয়ে ফেললেই আমাদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
এটা একটা ভয়েজ মেসেজ আমার ছোট বোনকে পাঠানো হয়েছিল। এই মেসেজের মর্মার্থ হচ্ছে, বিস্তর হ্যাভ ফ্যান করেছো, রাত হয়ে এবার দ্রুত বাড়ি ফেরো। আমি হলফ করে বলতে পারি, তোমাদের করো কাছেই এমন ফাটাফাটি একটা বাবা নেই!
না আমরা সই করিনি। সই না করার আরেক কারণ হচ্ছে আমরা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে কর দেই আমাদের আয়কর ফাইল আছে। একটা জমি আমাদের কাছে দলিল নেই আমরা কেন সই করব। কিন্তু এসব কোনো যুক্তিই শোনা হলো না। দফায় দফায় আমাদের বাড়িতে আক্রমণ হয়। আমাদের বাজে কথা বলা হয় এবং এক প্রকার বাধ্যই করা হয় সম্পদ লিখে দিতে এবং সেই টাকা এনে অন্য সম্পদ ইনভেস্ট করতে যেখানেও আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই।
২০২১ সালের জুলাই মাসে ঘটনা খুব খারাপ দিকে মোড় নেয়। আমাদের চাচারা আমাদের ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন আলোচনায় বসতে। কিন্তু তার কথা বলেন না। আমাদের পারিবারিক যৌথ মালিকানার একটা নির্মাধীন ভবনের নিচে আটকে রাখা হয়, শারীরিকভাবে বলপ্রয়োগ করেন দলিল সই করে দিতে। আমরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করলে পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে। আমরা এই ঘটনায় মামলা করি। মামলা করাও একটা কষ্টকর প্রক্রিয়া ছিল, বিশেষ করে পুলিশ বিশ্বাস করছিলেন চাচারা ভাতিঝিদের এভাবে মেরে আটকে শাসন করতেই পরে। প্রাপ্ত বয়স্ক নারী হয়েছে তো কী? এভাবে নারীরা বললেই এতে মামলা হয় না। পুরো দিন এখানে সেখানে ঘোরার পর সবশেষে রাতে মামলা নেওয়া হয়।
বিগত সরকারের আমলে পুলিশের তিনটি এজেন্সি এই মামলার তদন্ত করেছে। যেখানে পুলিশ নিজেই এসে আমাদের উদ্ধার করেছে নিয়ম অনুযায়ী পুলিশই এই মামলার প্রধান স্বাক্ষী কিন্তু কোনো এজেন্সিই নাকি ঘটনার সঠিক প্রমাণ পাননি। আরেক হয়রানি। ডিবির একজন কর্মকর্তা উপযাজক হয়ে আমার ছোটবোনকে পরামর্শ দিয়েছেন, আমাদের কোনও চাচাতো ভাইকে যেন বিয়ে করে ঘটনার মিটমাট করে নেই। যেখানে আমাদের কোনো অবিবাহিত চাচাতো ভাই নেইও, অথবা তারা চাচাতো বোন বিয়ে করে মিটমাট করার মতো প্রাগৈতিহাসিক মানসিকতারও না। কিন্তু উনি যেহেতু উনাদের গ্রামে এমন হয় দেখেছেন সেই নিধান দিয়ে কেস শেষ করতে চাচ্ছেন। এভাবে বিভিন্ন এজেন্সির অদক্ষতা, অযোগ্যতা অবং অনাগ্রহে চার বছর পর তিনজন মূল আসামীকে অব্যাহতি দেওয়ার মাধ্যমে মামলা বিচার প্রক্রিয়াতে গড়িয়েছে।

আমরা তিন বোন, আমাদের ভাই নাই- ধর্ম, রাষ্ট্র এবং সমাজ এই বাক্যে বৈষম্যের যে অন্যায় শক্তি যুক্ত করেছে, গত পাঁচ বছরে আমরা তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি। আমরা একটা জীবন যাপন করি যার জন্য আমাদের না সমাজ না আইন না রাষ্ট্র কোনো আলাদা সুবিধা দিয়েছে। আমরা সমান সন্তানের মতো বাবা মায়ের যত্ন নিয়েছি, রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করেছি, এমনকি জীবনের সকল ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করে দেওয়ার বেলায় বেশিটুকুই দিয়েছি। কিন্তু কন্যা বলে রাষ্ট্র বা সমাজ আমাদের দেওয়ার বেলায় সম্পদে সমান অধিকার বাদ, যতটুকু আইনত ভাগ ছিল সেটাও নিশ্চিত করতে পারেনি। রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আমার বাবার পুত্র নেই বলে আমার বাবার সম্পদ যারা ভাগ বসিয়েছে তার আমাদের রক্ষা করার বদলে আমাদের বাকি সম্পদ কেড়ে নিতে চায়- রাষ্ট্র সেখানে কোনো বিচার পর্যন্ত রাখেনি। বিচার চাইতে গিয়ে আমাদের মামলার হয়রানি পোহাতে হচ্ছে, তার উপর নিয়মিত নানা আক্রমনের ঝুঁকি তো আছেই।
যেদিন মামলার হাজিরা থাকে আমার খুব অভিমেন্যু বোধ করি। আমরা যাদের মুখোমুখি দাঁড়াই তারা জ্ঞাতি, গুরুজন- সম্মানীয়। একটি বিচারহীন সংস্কৃতির দেশে, নারীদের জন্য বন্ধুর একটা দেশে আমাদের বাস্তবতা আলাদাই। তবে সত্যি বলতে, এই লড়াই নিয়ে আমাদের মনে কোনো দ্বিধা নেই। আমরা খুব সাহসী পিতার কন্যা আমাদের অত্যন্ত যত্ন করে তৈরি করা হয়েছে সমান মানুষ হতে।

আমরা যে লড়াই করে যাচ্ছি বাংলাদেশের নারীরা সাধারণত এই বিষয় নিয়ে কথা বলেন না। সংবাদপত্র এসব কথা প্রকাশ করে না। খুব বিচ্ছিন্নভাবে কিছু নারী হয়ত রুখে দাঁড়ান, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নারীর রুখে দাঁড়ানোর মতো শক্তিশালী করে বাংলাদেশের নারীদের, কন্যা শিশুদের বড়ও করা হয় না। যদিও বা কেউ রুখে দাঁড়ান সামাজিক চাপে চুপ হতে বাধ্য হন, এবং এর পরেও যারা হন না তার আমাদের মতো বিচার প্রক্রিয়ার কুণ্ডে ঘুর্ণি খান— বাড়ি ফেরার অধিকার এদেরও থাকে না। ঠিক যেমন আমাদেরও নেই।
আমরা একজন অসীম সাহসী বাবার বীর কন্যা। আজকে আমাদের বাবার মৃত্যুর এক হাজার আটশ ছাব্বিশতম দিন। আমরা তিন বোন, আমাদের ভাই নাই- তবে এই বাক্যের যে ন্যারেটিভ সেটা আমরা মানতে রাজি নই। তাই আমরা আজও সেই বাস্তবতা মেনে নেই নাই। বাংলাদেশে যদি এক শতাংশ নারীও পারবারিক সম্পদে তাদের প্রাপ্ত অধিকার আদায় করে নিতে পরে, আমরা তাদের একজন হতে চাই।



অনেক সুন্দর লিখেছেন, মাকসুদা! আপনার বাবার জন্য শ্রদ্ধা এবং আপনাদের বোনদের জন্য শুভ কামনা।
Wishing you all the best